Wellcome to National Portal
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
Text size A A A
Color C C C C

সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৫ মে ২০১৫

বান্দরবানে ঐতিহ্যবাহী জল উৎসব শুরু'১৫


প্রকাশন তারিখ : 2015-04-13


পুরানো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরের বরণকে সামনে রেখে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ঐতিহ্যবাহী জল উৎসব শুরু হয়েছে। বান্দরবান শহরের রাজার মাঠে এবং সদর উপজেলার থলি পাড়ায় মারমা সম্প্রদায় তাদের বৈচিত্র্যময় নানান অনুষ্ঠান মালার মধ্য দিয়ে অন্যতম সামাজিক অনুষ্ঠান সাংগ্রাই উৎসবের আয়োজন করে । এছাড়াও রুমা, রোয়াংছড়ি,থানছি, লামা, আলীকদম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ব্যাপক জল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব বীর বাহাদুর উশৈসিং, এম.পি বলেছেন, অতীতের জরাজীর্ণতা, গস্নানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পিছনে ফেলে আশাদীপ্ত ভবিষ্যৎকে স্বাগত জানায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই জল উৎসব। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভিন্নতর এ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সেীহার্দ্যবোধ, শ্রদ্ধা আর ভালবাসার অনুপ্রেরণা যোগায়। এ জল উৎসব পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও উন্নয়নের টেকসই অভিযাত্রায় এক ও অভিন্ন সত্বার মেলবন্ধনে আমাদের সবাইকে আবদ্ধ করার অনুপ্রেরণা দেয়। 

প্রতিমন্ত্রী মহোদয় আরো বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি ও বাঙ্গালি জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান প্রমান করে ধর্ম যার যার , উৎসব সবার। স্বত:স্ফুর্ত ও আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা পুরানো বর্ষকে বিদায় ও  নববর্ষকে  ন্বাগত জানানোর এ ধারাবাহিকতা অনন্তকাল অটুট থাকুক, অক্ষুন্ন থাকুক-এই প্রত্যাশাই করি।

উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল,২০১৫ বান্দরবানে বর্ণাঢ্য র‌্যালীর মধ্যেদিয়ে ৫ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয় এবং ১৬ এপ্রিল'১৫ মৈত্রীয় পানি বর্ষণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এ উৎসবের শেষ হয়।

বৈ-সা-বি উৎসবের তাৎপর্য: বৈ-সা-বি উৎসবে মারমা তরম্নণ-তরম্নণীরা ছোট-বড় দলে বিভক্ত হয়ে জলকেলীতে মেতে উঠে। পাহাড়ের বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উৎসবকে ত্রিপুরা সম্প্রদায় ‘বৈসুক’, মারমা সম্প্রদায় ‘সাংগ্রাই’ এবং চাকমা সম্প্রদায় ‘বিজু’ নামে অভিহিত করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান তিন সম্প্রদায়ের এ অনুষ্ঠানের ৩টি আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈ-সা-বি নামে পাহাড়ে এই উৎসব পরিচিত।  সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে মারমা সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে পিঠা তৈরির ধুম পড়ে । পাড়ায় পাড়ায় সারিবদ্ধভাবে বসে তরম্নণ-তরম্নণী এবং শিশু-কিশোররা হরেক রকমের পিঠা তৈরি করে। রাতব্যাপী পিঠা তৈরি করে বাহারী রকমের পোষাক পরে তারা এসকল পিঠা পাড়ায় পাড়ায় এবং বৌদ্ধ বিহার গুলোতে বিতরণ করে।

ম্রো সম্প্রদায়ের মতে. চাংক্রান উৎসবে ম্রো নারীরা পুঁতিমালা তৈরি, কাপড় বুনোন ও লাঠি দিয়ে বিভিন্ন কায়দায় শক্তি প্রদর্শন করে এবং জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ম্রো তরম্নণ-তরম্নণী ও বয়স্ক নারী-পুরম্নষরা নাচ-গানের মধ্যে দিয়ে উৎসবটি পালন করে। আর মারমা সম্প্রদায় বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধের মুর্তি সণান অনুষ্ঠান পালন করে। বুদ্ধ মুর্তি ধোয়া পানি পবিত্রতার প্রতীক মনে করে সেই পানি যুবক-যুবতীরা যত্নসহকারে ঘরে নিয়ে এসে রোগ মুক্তি লাভের আশায় পান করে। তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মতে. ঘিলা তাদের শত বছরের ঐহিত্যবাহী একটি খেলা। নারী-পুরম্নষ ঊভয়েই এই খেলায় অংশগ্রহন করে। তারা বিশ্বাস করে, তাদের ঘরের দরজায় ঘিলা ঝুলিয়ে রাখলে অপদেবতা থেকে মুক্ত থাকা যায়। সেই হিসেবে বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে তারা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঘিলা খেলা মহাআনন্দের সাথে করে থাকে।